
যে ভারতে থাকা অবস্থায় হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, সে ভারতে বসেই জেনেছেন দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার কথা, পেয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা। পৃথিবীর ইতিহাসে সরকার প্রধান হিসেবে ‘দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নারী’ শেখ হাসিনা, রাজনীতিতে যার উত্থান-পতন দুই’ই ছিল নাটকীয়তায় মোড়া।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘প্রবল প্রতাপের’ সাথে নিজেকে দৃশ্যমান রেখেছেন শেখ হাসিনা – কখনো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে, কখনো বিরোধী দলীয় নেত্রী, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
“সাড়ে চার দশকে দেশটির রাজনীতির মাঠে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হলে শেখ হাসিনার নামটা আসবেই,” বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ।
সমালোচকদের মতে, ৭৬ বছর বয়সী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে ৪৪ বছর ধরে শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা শেখ হাসিনার সবশেষ শাসনামলে নেওয়া নানা সিদ্ধান্তের কারণেই হুমকির মুখে পড়েছে দলটি।
ইতোমধ্যেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও তুলেছেন বিরোধীদের অনেকে।

১৯৭৫ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মজিবুর রহমান। দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রাণে বেঁচে যান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
কোণঠাসা হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৬ সালে সামরিক সরকারের সময় পলিটিক্যাল পার্টিজ রেগুলেশনের (পিপিআর) আওতায় নতুন করে নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতির মাঠে দৃশ্যমান হতে শুরু করে আওয়ামী লীগ।
তবে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলে দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। পরে দলটির নেতা আব্দুর রাজ্জাক, ড. কামাল হোসেন এবং বেগম জোহরা তাজউদ্দিনের উদ্যোগে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দলের হাল ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।